গোবিন্দগঞ্জে ৪০ বছর ধরে খবর ফেরি করা তছলিমের জীবনে শুধুই ‘দুসংবাদ’

0
2
 আলমগীর হোসেনঃ
বয়সের ভারে শরীর আর চলে না, কিন্তু অভাবের তাড়নায় থামতেও পারছেন না তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে এলাকার মানুষকে দেশ-বিদেশের খবরের কাগজ পৌঁছে দিচ্ছেন যে মানুষটি, সেই তছলিম উদ্দিনের (৬৬) নিজের জীবনটাই এখন যেন এক করুণ খবরের শিরোনাম।
​গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের সদর কলোনির বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন। জীবনের সোনালী দিনগুলো কাটিয়েছেন পশ্চিম জনপদের মানুষের হাতে ভোরে পত্রিকা তুলে দিয়ে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় মানুষ এখন ঝুঁকেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, ফলে খবরের কাগজের চাহিদা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালানো এখন তার জন্য এক অসম্ভব লড়াই।
​হকারি জীবন থেকে মুক্তি চান, কিন্তু পিছু ছাড়ছে না অভাব। তছলিম উদ্দিনের চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক।
সন্তানদের বিয়ে দিয়েছেন। জীবনের এই অপরাহ্নে নাতি-নাতনিদের নিয়ে হেসে-খেলে দিন কাটানোর কথা থাকলেও, তাকে এখনো হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
​বয়স হয়েছে, আগের মতো দৌড়াতে পারি না। পত্রিকার ব্যবসাও আর নেই। মানুষ এখন মোবাইলে খবর পড়ে। জীবনটা শেষ করে দিতে মন চায়, কিন্তু সংসারের অভাব তো পিছু ছাড়ে না!”-আক্ষেপ করে বলছিলেন তছলিম উদ্দিন।
​শুধু বয়সের ভারই নয়, তছলিম উদ্দিন একজন হৃদরোগী (হার্টের রোগী)। অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কপালে জোটেনি একটি ‘বয়স্ক ভাতার কার্ড’।
​ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেক ঘুরেছি, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কেউ একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দিল না। সবাই বলে জনপ্রতিনিধি ছাড়া নাকি এসব পাওয়া যায় না!
​যে মানুষটি চার দশক ধরে সমাজের মানুষকে প্রতিদিনের খবরের আলো যুগিয়েছেন, আজ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও শারীরিক অসুস্থতায় তিনি নিঃসঙ্গ, অসহায়।
উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন-এই প্রবীণ পত্রিকা হকারের সুচিকিৎসা এবং একটি স্থায়ী সরকারি সহায়তার (বয়স্ক ভাতা) ব্যবস্থা কি হতে পারে না?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here